"সফলতা" শব্দটি আজ কেবল সংখ্যার ফ্রেমে বন্দি। ভালো মানুষ হওয়ার চেয়ে জিপিএ-৫ অর্জনই কি আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে?
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ৫৭.৭% মৃদু থেকে তীব্র বিষণ্নতায় আক্রান্ত।
শিক্ষার্থীরা মনে করে, জিপিএ-৫ ছাড়া তাদের জীবনের কোনো মূল্য নেই—যা তৈরি করছে অর্জনের নেশা।
"মাধ্যমিক পর্যায়ে আত্মহত্যাকারীদের প্রায় ৫০% ছাত্রী, যার অন্যতম প্রধান কারণ একাডেমিক চাপ ও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার অভাব।"
আপনার সন্তানের মাঝে কি এই পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করছেন?
"পৃথিবীতে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।"
রিজিক মায়ের গর্ভেই নির্ধারিত। নবীজি (সা.) শিখিয়েছেন পাখির মতো আল্লাহর ওপর ভরসা করতে।
ইসলামে সফলতা শুধু জিপিএ-৫ নয়, বরং দুনিয়া ও আখেরাতের সমন্বিত কল্যাণ।
সন্তানকে বোঝাতে হবে, "তোমার রেজাল্ট যাই হোক, আমি তোমাকে ভালোবাসি।" ভালোবাসা যেন গ্রেড শিটের ওপর নির্ভর না করে।
ফলাফলের (Outcome) প্রশংসা না করে, তার কঠোর পরিশ্রম বা প্রচেষ্টার (Effort) প্রশংসা করুন। এটি তাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করবে।
সন্তানের জিপিএ-৫ এর চেয়ে তার মানসিক স্বাস্থ্য এবং নৈতিকতাকে অগ্রাধিকার দিন।
ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার চাপের বাইরে সন্তানের আগ্রহ ও প্রতিভাকে গুরুত্ব দিন। আইটি ও কারিগরি দক্ষতা বাড়ান।
'সোনামণি সিরিজ'-এর মতো বইয়ের মাধ্যমে শিশুদের চরিত্র গঠনে মনোযোগ দিন। স্মার্টফোনের বদলে বই দিন।
সন্তানের জন্য ইব্রাহিম (আ.) এর দুআ করুন: "রাব্বি হাবলি মিনাস সালিহীন" (হে আমার প্রতিপালক, আমাকে নেক সন্তান দান করো)।
দিনশেষে কবরে জিপিএ-৫ কাজে আসবে না, কাজে আসবে 'নেক সন্তান' ও 'আখলাক'